মৌখিক পরীক্ষা ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজে

মৌখিক পরীক্ষা ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজে

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছে ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজ। তবে স্বাস্থ্য বিধির ‘অজুহাত’ দেখিয়ে আবাসিক ভবনে শিক্ষার্থীদের থাকতে দিচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে বিপাকে পড়েছে দূর দূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে নাম্বার কমিয়ে দেবারও হুমকি দিচ্ছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি আবাসিক ভবন খুলে দেবার অনুমতি দেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ জানায়, পরীক্ষা নেবার বিষয়টিই তাদের জানা নেই। ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজসহ দেশের পাঁচটি নার্সিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।

জানা যায়, শনিবার এবং রবিবার সারাদিন পরীক্ষাও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু আবাসিক ভবন না খোলায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়েই এসব শিক্ষার্থীরা স্বজন অথবা পরিচিতজনদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে যেসব ছাত্রীদের ময়মনসিংহ নগরীতে পরিচিতজন নেই তাদের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক ভবনের ছয় তলার শ্রেণী কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিদিন ওইসব কক্ষে প্রায় একশ মেয়ে শিক্ষার্থী থাকছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত মোট পরীক্ষার্থী রয়েছে ৪৪৩ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৬ জনই ছাত্রী। ইতিমধ্যে শনি ও রবিবার ১৬৮ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, করোনা সংক্রমণের অজুহাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ আবাসিক হলে থাকতে দিচ্ছেনা। অথচ একাডেমি ভবনের ছয়তলার শ্রেণীকক্ষে মেয়েদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে বাধ্য হয়েই গাদাগাদি করে ছাত্রীদের থাকতে হচ্ছে। প্রশ্ন রেখে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, তাহলে কী ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে?

আবাসিক ভবন খুলে দেবার অনুমতি নেই জানিয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ জহুরা খানম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এমনকি যেখানে ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানেও স্বাস্থ্য বিধির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. শাহরিয়ার নবী জানান, আমাদের অনুমতি না নিয়েই কলেজটি পরীক্ষা নিচ্ছে। আর পরীক্ষা নিবে কিন্তু আবাসিক ভবন খুলে দিবেনা এটা মেনে নেয়া যায়না। তাহলে এতদিন অপেক্ষা করে আমাদের কী লাভ হলো! আমি অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করছি।