অভিনেত্রী পায়েল, অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

অভিনেত্রী পায়েল, অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

যৌন হেনস্থার অভিযোগে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে মুম্বায়ের ভারসোভা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলা করার সময় নায়িকার সঙ্গে ছিলেন তার আইনজীবী নিতিন সাতপুতে।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, ২০১৩ সালে অনুরাগ কাশ্যপ নানাভাবে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও কু-প্রস্তাব দেন। যদিও এই দাবি সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩৫৪ (কোনও মহিলার শ্লীলতাহানি), ৩৪১ (অন্যায় সংযম), ৩৪২ (অন্যায়ভাবে আটকে রাখা)- এর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ৭ বছর আগে ঘটা এই মামলার জন্য শিগগিরই অনুরাগ কাশ্যপকে জেরা করবে পুলিশ।

অভিযোগে পায়েল জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে ভারসোভার ইয়ারি রোডের বাড়িতে এই দুষ্কর্ম করেছিলেন অনুরাগ। এর আগে ওশিওয়াড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন পায়েল। তবে বিষয়টি ভারসোভা থানার আওতাধীন হওয়ায় পায়েলকে সেখানে অভিযোগ জানাতে বলা হয়।

মঙ্গলবার রাতে টুইট বার্তায় অনুরাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের খবর নিশ্চিত করেন পায়েলের আইনজীবী।

যদিও অনুরাগের দাবি, ঠোঁটকাটা স্বভাবের মাশুল দিতে হচ্ছে তাঁকে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে পরিচালককে। এই মর্মে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের আইনজীবীর বিবৃতি জারি করে নিজের পক্ষ রাখেন ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ পরিচালক।

অনুরাগ কাশ্যপের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা খিমানি পায়েল ঘোষের তোলা সব অভিযোগকে খারিজ করে বলেন, ‘আমার মক্কেল, অনুরাগ কাশ্যপ অত্যন্ত মর্মাহত তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের কারণে। এই অভিযোগ পুরোপুরি ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, একটা সামাজিক গুরুত্বপূর্ন আন্দোলনকে অনেকেই নিজের ফায়দা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করছেন। এখন হ্যাশমিটু আন্দোলনটা কারুর চরিত্র হননের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে- এটা খুব নিন্দনীয়। এই প্রকৃতির কল্পিত অভিযোগগুলো এই আন্দোলনকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়। সেইসঙ্গে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের প্রকৃত শিকার নারীদের বেদনা এবং আঘাতের বিষয়ে কিছু মানুষ সন্দেহহীনভাবে বাণিজ্যিক ফায়দা তুলতে চায়।