কী হতে পারে নেইমারের সঙ্গে বিবাদে জড়ালে তা বুঝলেন আলভারো

কী হতে পারে নেইমারের সঙ্গে বিবাদে জড়ালে তা বুঝলেন আলভারো

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নেইমার ভক্ত-সমর্থক। তাদের প্রিয় তারকার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে কেউ পার পাবে, তেমন ভাবনা না করাই ভালো।

 

বিষয়টি কেউ না বুঝলেও, হাড়ে হাড়ে বুঝলেন আলভারো গনসালেস। কয়েক সপ্তাহ আগে পিএসজির বিপক্ষে ক্লাসিকোতে পার্ক দে প্রিন্সেসের প্রাণভোমরা নেইমারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মার্শেইয়ের এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সেই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তার আগে আলভারোকে মাথায় আঘাত করেন তিনি।

নেইমারের দাবি, আলভারো সেই ম্যাচে তাকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন। বিষয়টি শেষ পযর্ন্ত তদন্ত করে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান কর্তৃপক্ষ। তবে সেই ঘটনার প্রমাণাদি না থাকায় শাস্তি থেকে রেহায় পান উভয়ে।

কিন্তু নেইমার ভক্তদের কাছ থেকে কিভাবে রেহায় পাবেন আলভারো! প্রিয় তারকাকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার কথা শুনে থেমে থাকেনি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের ভক্তরা। নেইমার ভক্তদের কাছ থেকে হোয়াটসআপে ২ মিলিয়নের বেশি মৃত্যু হুমকি পেয়েছেন আলভারো।  ড্রাগন স্পোর্ট ব্রান্ডসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মার্শেই ডিফেন্ডার।

আলভারো বলেন, ‘হোয়াটসআপে আমি ২ মিলিয়নেরও বেশি মৃত্যু হুমকি পেয়েছি, যার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ভাষারও মেসেজ আছে। আমি কিছুই বুঝিনি। যে গাড়ি আমি ব্যবহার করি তার ছবি পাঠিয়ে লিখলো, তারা আমাকে হত্যা করার জন্য আমার বাড়িতে আসতেছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিন আমি আরেকটা মেসেজ পেলাম, যেখানে লেখা, আমার মা-বাবা যেখানে শপিং করেন তারা সেখানে যাচ্ছে তাদের খুন করার জন্য। আমি ভয় পেয়েছিলাম। এমনটা আমার সঙ্গে এর আগে কখনও ঘটেনি। ’

পিএসজির বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর আলভারো নিজেই জানতেন, তার কঠিন সময় শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি সে রাতে ঘুমোতে পারিনি কারণ নেইমারের সর্বত্র ক্ষমতা আছে। সে নিজেও জেনেছিল, প্রতিক্রিয়াগুলো কেমন ভয়ঙ্কর হতে পারে। পরেরদিন আমার মা-বাবা আমার সঙ্গে ছিল কারণ আমরা খুব ভয়ে ছিলাম এবং একসঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম ও দেখতে চেয়েছিলাম বাড়ির বাইরে কী হচ্ছে। ’

এমনকি সেই ঘটনার পর আলভারো ফ্রান্স ছাড়ারও চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সবকিছু আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমার মা-বাবা প্রতিদিন আমাকে বাড়িতে দেখতে আসতো এবং তারা দেখতো ঐ ঘটনার পর আমি কতটুকু কষ্টের মধ্যে ছিলাম। আমি ক্লাব ছাড়ারও চিন্তা করেছিলাম। শহরে একজন বর্ণবাদীর জীবন যাপন করা অসম্ভব। আমি কোচ ও প্রেসিডেন্টকে বলেছিলাম যে, বর্ণবাদী অভিযোগ ওঠার ব্যাপারে আমার কথার নড়চড় হবে না, বরং আমি ক্লাব ছাড়তেও রাজি। ’

নেইমারকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগ শুরু থেকে অস্বীকার করে আসছেন আলভারো।