গোমর ফাঁস করলেই পরেরদিন চাকরি শেষ

গোমর ফাঁস করলেই পরেরদিন চাকরি শেষ

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সরকারি দলের কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট করে প্রতিবছর তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছেন। এতে করে সেই ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবুও সব সহ্য করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। তারা জানিয়েছেন, আজ গোমর ফাঁস করলেই পরেরদিন চাকরি শেষ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিবছর কর্মচারী নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আর টেন্ডারের মাধ্যমেই কাজ পেয়েছে এইচআরকে এবং মীম ট্রেডার্স নামের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী তুহিন ও মোশারফ। আর এ দু’জন ছাড়াও তাদের সঙ্গে রয়েছেন আরেক প্রভাবশালী ঠিকাদার রিপন মিয়া। হাসপাতালে ১৮ জন সিকিউরিটি গার্ড, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার, আয়াসহ মোট ৬৫ জন কর্মচারী রয়েছেন।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর টেন্ডার আহ্বান করা হলেও সেখানে ওই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের জন্য। ফলে সরকার প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকা হারাচ্ছেন। আর এই টাকার ভাগ নিচ্ছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে হাসপাতালে ৬৫ জন কর্মচারি থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৪৫ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ক্লিনার বলেন, আমি তিন বছর ধরে হাসপাতালে চাকরি করছি। আমাকে প্রতিমাসে ঠিকাদার সাত হাজার করে বেতন দেন। বেতন দেওয়ার সময় তারা আবার আমার কাছ থেকে বেতনের দ্বিগুন হারে সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার চেকে সই করিয়ে নেন।

একই অবস্থা আরেক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও। তিনিও প্রতিমাসে বেতন পান সাত হাজার টাকা। কিন্তু পরিবর্তে তার কাছ থেকেও নেওয়া হয় দ্বিগুন টাকার চেক। তিনি জানান, তার চেক বই ঠিকাদারের কাছেই রয়েছে। প্রতিমাসে তারাই এসে বেতন দিয়ে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নারী জানান, তিনিও বেতন পান সাত হাজার টাকা। কিন্তু তার কাছ থেকেও সাদা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে তিনি কতটাকা মূল বেতন পান সেটি তিনি জানেন না।

তৃতীয় তলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক ওয়ার্ড বয় জানান, তিনি প্রতিমাসে আট হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। তবে বেতন দেওয়ার সময় কোনো চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে আর কিছু জানতে চাইয়েন না। আপনি ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় কথা হয় এক সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১০/১১ বছর ধরে একই ঠিকাদারের মাধ্যমে একানে চাকরি করছি। প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিমাসে ঠিকাদার তাকে নয় হাজার টাকা বেতন দিয়ে তার কাছ থেকে বেতনের দ্বিগুন অংকের চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

এ বিষয়ে মীম ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মোশারফ  জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা জমা করে দেন। টাকা জমা হওয়ার পর তারাই টাকা উত্তোলন করেন। তবে ব্যাংকের (যার যার) সব চেকে আগে থেকেই স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে। আর কোন কর্মচারীদের মূল বেতনের কম দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।