ফাঁড়িতে যুবক খুন: তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন

ফাঁড়িতে যুবক খুন: তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যুবক রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তার পরিবর্তে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক আওলাদ হোসেনকে। এছাড়া পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে এএসআই আশেক এলাহীও আদালতে জবানবন্দি দেননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর রায়হান হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় পিবিআই’র পরিদর্শক মাহিদুল ইসলামকে। কিন্তু গত সোমবার (২ নভেম্বর) মাহিদুল ইসলামের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসলে তাকে মামলার তদন্তকার্য থেকে বাদ দিয়ে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে পরিদর্শক আওলাদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান।

এদিকে, রায়হান আহমদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা পুলিশের সোর্স সাইদুর শেখের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। সৌদি রিয়েল দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাইদুরের বিরুদ্ধে কতোয়ালি থানায় মামলা হয়। আফজাল হোসেন নামে জকিগঞ্জের এক ব্যক্তি এই মামলা দায়ের করেন। সাাইদুরকে গত ২৫ অক্টোবর ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছিলো পিবিআই। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ১০ অক্টোবর রাতে রায়হান আহমদকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া আগের দুই পুলিশ সদস্যের মতো রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহী। রায়হান হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পিবিআই। রিমান্ড চলাকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল (৩ নভেম্বর) মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

প্রঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেওয়া হয় নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে। পরদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী। প্রথমে ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হান মারা গেছে বলে দাবি করে পুলিশ। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফাঁড়িতে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করে। রায়হানের স্ত্রীও হত্যা এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।