বগুড়ায় ৫ শতাধিক চালকল মালিকের শাস্তি

বগুড়ায় ৫ শতাধিক চালকল মালিকের শাস্তি

বগুড়ায় ভালো ফলনের পরেও চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান সফলতা পায়নি। লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ধান-চাল সংগ্রহ হয়েছে। তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেও প্রায় ৫ শতাধিক মিলার কোনো ধান-চাল সরবরাহ করেনি।

চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেও সরকারের গুদামে নিয়ম অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করায় মিলারদের কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি শাস্তিও প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম।

বগুড়া জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমে জেলার ১২টি উপজেলার ২৩টি এলএসডি ও ১টি সিএসডি সরকারি খাদ্য গুদামে ৭১ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন চাল সরবরাহে মোট ১ হাজার ৯৬২ জন চালকল মালিকের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৬ জন চুক্তি করেন। এ ছাড়া লোকসানের আশঙ্কায় জেলার বাকি ৪০২ জন মিল মালিক চাল দিতে সরকারের সাথে কোনো চুক্তিই করেনি।

সরকারি গুদামে সিদ্ধ চালের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে দাম কিছুটা বেশি। এজন্য চুক্তি করেও লোকসানের কারণ দেখিয়ে চাল সরবরাহ করেননি ৩২৩ জন ও আংশিক সরবরাহ করেছেন ২৪৮ জন। এতে জেলায় দুই দফায় চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন এবং কৃষকের নিকট থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টনের স্থলে ২২ হাজার ৬৩৪ মেট্রিক টন।

খাদ্য বিভাগ চাল সরবরাহে মিল মালিকদের বার বার তাগাদা দিলেও তারা সাড়া দেয়নি। তাই সরকারি চুক্তি ভঙ্গের অপরাধে ৩২৩ জন মিল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করে আগামী দুই মৌসুমের জন্য তাদের নিষিদ্ধ করে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে আংশিক সরবরাহ করায় ২৪৮ জন মিল মালিককে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করেছে খাদ্য বিভাগ।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্র জানায়, চুক্তি না করা মিল মালিকদের আগামী দুই মৌসুম, চুক্তি করেও চুক্তি মোতাবেক চাল সরবরাহ না করায় এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব মিল মালিকরা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারবে না। এ ছাড়া আরো কিছু মিল মালিককে আর্থিক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এসব শাস্তির কারণে আগামী মৌসুম থেকে চুক্তি মোতাবেক চাল পাওয়া যাবে বলে আশা করছে খাদ্য বিভাগ।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জানান, চুক্তিবদ্ধ মিলারদের মধ্যে চাল সরবরাহ করেনি ৩২৩ জন। আংশিক সরবরাহ করেছে ২৪৮ জন। তাদের তালিকা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করেন শাস্তির বিষয়টি। শাস্তি মোতাবেক মিল মালিকদের সর্বোচ্চ দুই বছর বা দুই মৌসুম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।