যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাইডেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষণ গণনা মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হতে চলছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। দোদুল্যমান রাজ্য জর্জিয়ার পর পেনসিলভেনিয়া ও নেভাদাতেও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।
১৬ ইলেকটোরাল কলেজের রাজ্য জর্জিয়ায় ১০৯৬ ভোটের ব্যবধানে, এবং পিতৃভূমি পেনসিলভেনিয়ায় ৫ হাজার ভোটে ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। কেবল পেনসিলভেনিয়াতেই রয়েছে ২০ ইলেকটোরাল কলেজ। এগিয়ে থাকা অ্যারিজোনার ১১ টিসহ ৫৩৮ ইলেকটোরাল কলেজের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬৪ টির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেট প্রার্থীর। আর রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দখলে ২১৪ টি। হোয়াইট হাউসে বসতে দরকার ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট। নেভাদা ও আলাস্কাতেও চলছে গণনা। বাংলাদেশ সময় আজ রাতেই আসতে পারে চূড়ান্ত ফল।
জর্জিয়ায় এগিয়ে গেলেন বাইডেন : মার্কিন নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য জর্জিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন জো বাইডেন। সবশেষ হিসেব অনুযায়ী ট্রাম্পের চেয়ে ৯১৭ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে আছেন বাইডেন।
১৬ ইলেকটোরাল ভোটের এ রাজ্যটিতে জয়ী হলেই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন। সেখানে ভোট গণনা শুরু হলে প্রথম দিকে ট্রাম্পের থেকে পিছিয়ে ছিলেন বাইডেন। কিন্তু শেষের দিকে এসে তিনি এগিয়ে গেলেন। খবর সিএনএনের। অঙ্গরাজ্যটিতে মোট ভোট পড়েছে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৯১টি। তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভোট ইতোমধ্যে গণনা করা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে উভয় প্রার্থীই এখন পর্যন্ত পেয়েছেছন ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ করে ভোট। তবে শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, ভোট গণনা এখনো বাকি আছে। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে পাঁচ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করছেন, নির্বাচনের ফল তার কাছ থেকে চুরি করে নেয়া হচ্ছে। যদিও তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
পেনসিলভেনিয়াতেও এগিয়ে বাইডেন : শেষ মুহূর্তের লড়াই জমে উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনায়। এরই মধ্যে অনেক পিছিয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক ধস নামছে তার। গুরুত্বপূর্ণ যে কয়টি অঙ্গরাজ্যের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বাকি রয়েছে, তার মধ্যেও বাইডেনের অধিপত্য। শেষবেলায় এসে রিপাবলিকানদের ঘাঁটিখ্যাত পেনসিলভেনিয়াতেও লিড নিয়েছেন তিনি।
ফক্স নিউজ বলছে, জো বাইডেন পেনসিলভেনিয়াতেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেরিয়ে গেছেন। অথচ প্রায় শুরু থেকেই রাজ্যটিতে এগিয়ে ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী। জো বাইডেন এ পর্যন্ত এখানে ভোট পেয়েছেন ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৭টি। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩১টি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন বাইডেন। এখানে এখন পর্যন্ত ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে।
এর আগে জর্জিয়ায় লিড নেন বাইডেন। অঙ্গরাজ্যটিতে ট্রাম্পকে টপকে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন এক হাজারের বেশি পপুলার ভোটের ব্যবধানে। অথচ শুরু থেকেই এখানেও ডোনাল্ড ট্রাম্পই এগিয়ে ছিলেন।
রাজ্যটিতে জো বাইডেন জয় পেলে ১৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সবগুলোই তিনি পাবেন। আবার পেনসিলভেনিয়াতে পাবেন ২০টি। তা যদি হয়, তাহলে তা হবে তার ‘নিরঙ্কুশ হোয়াইট হাউস জয়ের মূল চাবি’।
বাইডেন হোয়াইট হাউস জয়ে মাত্র ছয়টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। শুরুতে যার ভরসা ছিল ছয় ইলেক্টোরাল ভোটের নেভাদা। অবশ্য তাতেও তারই লিড। শুধু নর্থ ক্যারোলিনাতে ট্রাম্প এগিয়ে আছেন বলছে ফক্স নিউজ।
জয়-পরাজয়ের জটিল হিসাব মেলাতে উদ্বিগ্ন কর্মী-সমর্থকরা। ম্যাজিক ফিগার ২৭০ এর দিকে সবার নজর। এরমধ্যে জো বাইডেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে আছেন। ট্রাম্প পড়ে আছেন সেই ২১৪ তেই।
ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে বাইডেন ২৬৪, ট্রাম্প ২১৪ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথ আরও খুলে গেছে। মিশিগান ও উইসকনসিনে জেতার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁর প্রচার শিবির থেকে ভোট গণনা নিয়ে মামলা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাইডেন বলেছেন, ‘তিনি এখনো বিজয় ঘোষণা করেননি। তবে যখন ভোট গণণা শেষ হবে তখন তাঁর বিশ্বাস যে তাঁরা বিজয়ী হবেন।’
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উত্তরাঞ্চলের ব্যাটল গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত মিশিগান ও উইসকনসিনে জেতার পর বাইডেনের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ২৬৪ তে পৌঁছেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ২১৪। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ২৭০টি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিজয়ের পথে বাইডেন
(প্রথম পৃষ্ঠার পর)
খবর বলছে, বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যেই দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে। এএফপি বলছে, নেভাদার ছয়টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেলেই হোয়াইট হাউস জিতবেন বাইডেন। এ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এর বাইরে জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
একদিকে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে বাইডেন তাঁর সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। জো বাইডেন তাঁর সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ট্রাম্প বা আমি নিজেকে জয়ী ঘোষণার কেউ নই। এটা আমেরিকার জনগণের সিদ্ধান্ত।’
মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ভোট গণনা নিয়ে ট্রাম্পের তোলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ভোট গণনা চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের জয় দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুম থেকে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছি। এটা (ভোট গণনা) মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।’ তিনি ভোট গণনার অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।
ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়লেন মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সময় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি ভোট পেয়েছেন সাত কোটির বেশি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। তবে পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকলেও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার জন্য তা বিবেচ্য নয়। সেখানে যেতে হলে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে জিততে হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মিশিগানকে বাইডেনের বলেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এর আগে উইসকনসিনও দাবি করেছেন বাইডেন। এর পাশাপাশি অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যটিও ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। এখন হোয়াইট হাউসের চাবি তাঁর হাতের নাগালেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমাদের সিস্টেমের স্বচ্ছতার এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষতি হয়ে গেছে।’
পরাজয় আভাস পেয়ে ট্রাম্প শিবিরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সুইং স্টেট উইসকনসিনের ভোট পুনর্গণনা করার আবেদন করবে বলে জানিয়েছে তারা। আর রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়াতে ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে মামলা করেছে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা শিবির। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ অবশ্য অনুমিতই ছিল। কারণ শুরু থেকেই তিনি আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
তবে নিজেকে এখনই বিজয়ী বলতে নারাজ বাইডেন। ভোট গ্রহণ শেষে ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে দেওয়া আনুষ্ঠানিক এক ভাষণে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, ‘আমি এখানে বিজয় ঘোষণা করতে আসিনি। কিন্তু বলতে এসেছি, ভোট গণনা শেষ হলে আমার বিশ্বাস আমরাই জিতব।’
ইউএসএ টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, নেভাদাএ তিনটি রাজ্যের ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প ও বাইডেনের ভাগ্য। বুধবার দুপুরের দিকে উইসকনসিন ও মিশিগানে জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণার পর থেকেই এ তিন অঙ্গরাজ্যের ওপর সবার চোখ।
বাইডেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোট ধরে রেখেছেন আর ট্রাম্পের ভোট ২১৪। বাইডেনের দরকার মাত্র ৬ ভোট আর ট্রাম্পের দরকার ৫৭ ভোট।
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ট্রাম্পকে অবশ্যই পেনসিলভানিয়ায় জিততে হবে। কিন্তু তাঁর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে ডাকযোগের ভোট। অধিকাংশ ডাকযোগের ভোট বাইডেনের পক্ষে যেতে দেখা গেছে। এ অঙ্গরাজ্যে এসব ভোট ট্রাম্পকে বেকায়দায় ফেলতে পারে।
আলাস্কা (৩ ইলেক্টোরাল ভোট) ও নেভাদার (৬ ইলেক্টোরাল ভোট) ফলাফলও এখন ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলাস্কা ট্রাম্পের পক্ষে ঝুঁকে রয়েছে। নেভাদায় বাইডেন মাত্র ১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত ফল আশা করা যাচ্ছে না। নর্থ ক্যারোলাইনার ফলাফল এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু সেখানে ট্রাম্প ১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে।
বাইডেন যদি নেভাদায় জিতে যান তবে তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু ট্রাম্পের সবগুলো অঙ্গরাজ্যে জেতা ছাড়া উপায় নেই।
বাইডেন যদি জর্জিয়া বা পেনসিলভানিয়া জিততে পারেন তবে তাঁর পক্ষে আর কোনো বাধা থাকবে না। গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভোট গণনা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টম ওলফ।
এদিকে ভোট গণনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে আয়োজিত নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হাজারো মানুষের নির্বাচনী শোভাযাত্রা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিশিয়াল বা চূড়ান্ত ফল এখনো আসেনি। চূড়ান্ত ফল আসতে কয়েক দিন পর্যন্ত লেগে যায়। এ বছর ব্যাপকভাবে ডাকযোগে ভোট আসায় গণনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। মূল ব্যাটল গ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনের আগে এসব ভোট গণনার অনুমতি নেই। তাই নির্বাচনের পরই এসব ভোট গণনা করতে হয়। এসব ভোট গণনায় সময় লাগে বেশি।