ভোট জালিয়াতি, ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

ভোট জালিয়াতি, ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি বছরের মার্কিন নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিষয়ক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। নির্বাচন বিষয়ক মার্কিন ফেডারেল কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২০ সালের হোয়াইট হাউসের ভোট ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সুরক্ষিত নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফেডারেল কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কোনো ভোটিং সিস্টেমে গড়মিল, ভোট সরিয়ে ফেলা বা ভোট বদল করে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা। গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ নির্বাচনে তাকে দেওয়া ২৭ লাখ ভোট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এর পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। এমনকি ইলেকটোরাল ভোটে এগিয়ে থাকা প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেনকেও এখনও পর্যন্ত জয়ী হিসেবে মানতে নারাজ ট্রাম্প। গত সপ্তাহেই মার্কিন গণমাধ্যমে ভোটের ফলাফলের আগাম ফলাফল জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট গণনার ওপর নির্ভর করে প্রতি নির্বাচনেই বিভিন্ন গণমাধ্যম এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে জয়ী হিসেবে আভাস দিয়ে থাকে। এবারের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যদিও এখনও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। কারণ এখনও কিছু ভোট গণনা বাকি রয়েছে। এগুলো শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এর আগে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তারা ৪৫টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সেখানে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির কথা জানাতে পারেনি রাজ্যগুলো। এদিকে মার্কিন অঙ্গরাজ্য সরকারের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতি ও কারচুপির প্রমাণ পায়নি তারা। অঙ্গরাজ্য সরকারের নির্বাচন অফিস স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে। স্বাধীনভাবে এসব নির্বাচনী অফিস কাজ করে থাকে। নির্বাচনী ফল প্রকাশের দায়িত্বে থাকেন অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী অফিস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জো বাইডেনকেই জয়ী হিসেবে ঘোষণা করেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন আন্তর্জাতিক নেতাদের অভিনন্দনও পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ২৮ অঙ্গরাজ্যে ব্যবহৃত ভোটিং সফটওয়্যার ডিলেট করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।