বিদেশি শক্তির চাপে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তর বিলম্বিত হচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশি শক্তির চাপে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তর বিলম্বিত হচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভাষানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, কিছু এনজিও এবং বিদেশি শক্তির চাপে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। গতকাল রোববার দুপুরে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দুই দিনের রাজশাহী সফরের শেষ দিনে গতকাল রোববার সকালে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ পরিদর্শন শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বয়ে যাওয়া অভিন্ন ৫৪টি নদী নিয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে তিস্তা চুক্তি আটকে রয়েছে। কবে নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, তা জানাতে না পারলেও মন্ত্রী চুক্তি নিয়ে নিজের আশার কথা তুলে ধরেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ৩৩ ভাগ বেশি শুল্ক দিয়ে থাকে। আমেরিকার নতুন সরকারের কাছে কিছু সময়ের জন্য হলেও শুল্ক কমানোর দাবি জানান তিনি। কোভিড পরবর্তী বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং বেকারত্ব নিয়ে আমেরিকার নতুন সরকার বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আবদুল মোমেন। রাজশাহী কলেজচত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে কলেজ মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানকে সম্মান করতে হবে। শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু করা, যাতে তারা জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হয়। আমরা ভাগ্যবান যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা পেয়েছিলাম। তিনি একটি নির্জীব জাতিকে অনুপ্রাণিত করে ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও পররাষ্ট্রনীতির কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছরে ১২৬ দেশের স্বীকৃতি লাভ করে বাংলাদেশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হলো ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’। আবদুল মোমেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। কিন্তু আমাদের চিহ্নিত কোনো শত্রু নেই। বর্তমান সরকার আলোচনার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় সমাধানে বিশ্বাসী। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্থল, সমুদ্রসীমা ও গঙ্গার পানি বণ্টন বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী কলেজ পরিদর্শনের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নগরীর কাদিরগঞ্জে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জাদুঘরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জাদুঘরের গ্রন্থাগারের জন্য তাঁর লেখা ও সম্পাদিত কয়েকটি বই উপহার দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী, জাদুঘরের পরিচালক এ আর এম আবদুল মজিদ, প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।