এসআই আকবর ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ড উদ্ধার

এসআই আকবর ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ড উদ্ধার
সিলেট: অবশেষে উদ্ধার রায়হান উদ্দিন (৩০) হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাট ডোনা সীমান্ত থেকে ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল, চারটি সিম কার্ড, সোয়েটার, গামছা ও শার্ট উদ্ধার করেছে বলে দাবি পুলিশের। যদিও এ নিয়ে অবাঙালি খাসিয়ারা ভিডিও ভাইরাল করে জানিয়ে দেয় আকবরের  মোবাইল, সিম কার্ড, ছবিসহ বিভিন্ন সামগ্রী তাদের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ডোনা সীমান্তে বরখাস্ত এসআই আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের স্থলে তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল ও সিম কার্ডসহ ব্যবহৃত সামগ্রী জব্দ করে পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিলেটের কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, জব্দ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দু’টি মোবাইল ফোন, চারটি সিম কার্ড, দু’টি গামছা, শার্ট ও সোয়েটার।  গত ১৬ নভেম্বর ‘ শিরোনামে  সংবাদ প্রকাশ হলে মাত্র তিনদিনের মাথায় আলামতগুলো উদ্ধারে সক্ষম হয় সিলেট জেলা পুলিশ। এরআগে গত ১০ নভেম্বর এসআই আকবরকেও ডোনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ গ্রেফতার করে।গত ১১ অক্টোবর ভোরে রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হয়। পরে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত দল ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর সত্যতা পেয়ে জড়িত থাকায় ইনচার্জ আকবরসহ চার পুলিশকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। বরখাস্ত অন্য ছয়জন পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আকবর পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ২৮ দিন পলাতক থাকার পর গত ১০ নভেম্বর অবাঙালি খাসিয়ারা আকবরকে আটক করে সিলেটের কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তে বাংলাদেশি জনতার কাছে হস্তান্তর করে। পরে বাংলাদেশি আব্দুর রহিমসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে কৌশলে গ্রেফতার দেখায় জেলা পুলিশ। তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ জানায় সীমান্ত এলাকায় কিছু বন্ধুদের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তদন্ত সংস্থা পিবিআইর কাছে আকবরকে হস্তান্তর করা হলে ১১ নভেম্বর ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ডে শেষে ১৭ নভেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার পর বরখাস্ত এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তা কারা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা রয়ে গেছে। অধরা রয়ে গেছে তাকে সহায়তাকারী আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা। যদিও সেসব তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। সম্প্রতি ভারইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে ভারতীয় খাসিয়ারা আকবরকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি করেছেন। ফেসবুক লাইভে তারা এসআই আকবরের হেফাজত থেকে ব্যবহৃত চারটি সিম কার্ড, মোবাইল ফোন, এক নারীর তিনটি ছবি ও আকবরের একটি ছবি রেখে দেওয়ার বিষয়টি তথ্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে। ভারতীয় খাসিয়ারা হাতে থাকা সিম কার্ডে আকবরকে সহায়তাকারীদের অনেক তথ্য প্রমাণ মিলতে পারে। তাই সেসব সিম উদ্ধারের দাবি জানান নিহতের পরিবার। এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পুলিশ সুপার খালিদ উজ জামান জানান, আকবরকে আমাদের প্রয়োজন ছিল, পেয়েছি। তবে তদন্তে সহায়ক কোনো আলামত পেলে আমরা জব্দ করবো। যদি আকবরের ব্যবহৃত সিম পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আরো তথ্য প্রমাণ মিলতে পারে।