সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে: কাদের

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি নানার রকমের ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ফেসবুক-ইউটিউবে প্রতিদিনই গুজব অপপ্রচার এবং এসবের ওপর ভিত্তি করে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দল। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। যে কোনও অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আদর্শের প্রশ্নে কোনও আপোশ নেই। করোনা মহামারি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত। আমাদের এখনই আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, এর কোনও ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ সচেতনতা কার্যক্রম চালাবে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আমরা দলীয়ভাবে সচেতনতা কার্যক্রম চালাবো। আমি আমাদের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে এ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছি। মহানগর-জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত ইউনিটগুলো সচেতনতা কার্যক্রম চালাবে। দুই-একদিনের মধ্যে সাব-কমিটি দেওয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো একজন একাধিক পদে থাকতে পারবে না। মহানগরসহ সহযোগী সংগঠনগুলোতেও যদি কোনও ব্যক্তির সদস্য পদও থাকে, তিনি সাব-কমিটিতে থাকতে পারবেন না। বিতর্কিতদের বিষয়ে আবারও সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, কোনো বিতর্কিত লোক যেনো সাব-কমিটিগুলোতে না আসতে পারে। দাগী সন্ত্রাসী, প্রতারক ধান্দাবাজ যেনো কমিটিগুলোতে আসতে না পারে। এখানে অনুপ্রবেশের ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশ। কমিটিগুলোতে যারা সদস্য সচিব, তারা এ বিষয়গুলো বিশেষভাবে দেখবেন। সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল, মির্জা আজম; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বসবে বাকি ৪ স্প্যান: এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১০৯তম বোর্ড সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সেতু বিভাগের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি জানান।, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৭টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। এতে সেতুর ৫ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান। আর নদীর স্রোত প্রত্যাশিত লেভেলে থাকলে অবশিষ্ট চারটি স্প্যান ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৯১ শতাংশ। নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। সেতুমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রামে দু’টি টিউব সম্বলিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের (কর্ণফুলী টানেল) প্রায় ২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে একটি টিউবের রিং প্রতিস্থাপনসহ বোরিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ দ্বিতীয় টানেল টিউবের বোরিং কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের বাস্তব ভৌত অগ্রগতি শতকরা ৬০ শতাংশ। এসময় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, বোর্ড সভার অন্য সদস্যসহ সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।