দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬

দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ; দেশে শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার ঘটেছে। আজ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শীতের কবলে পড়েছে দেশবাসী। গতকাল শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ময়নমসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গতকাল শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ফরিদপুরে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, মাদারিপুরে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি, গোপালগঞ্জে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে ৯ ডিগ্রি, নেত্রকোনায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শ্রীমঙ্গলে ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ৮ ডিগ্রি, ঈশ্বরদীতে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি, বগুড়ায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, বদলগাছীতে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, তাড়াশে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি, রংপুরে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৭ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ডিমলায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, যশোরে ৮ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, কুমারখালীতে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি, বরিশালে ৯ ডিগ্রি ও ভোলায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্য জায়গায় তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে জনজীবন। ঠান্ডায় চরম বিপাকে পড়ে শিশু ও বয়স্করা। তীব্র ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন। গত শুক্রবার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও গতকাল শনিবার তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলে বলে জানিয়েছে রাজারহাট আবহাওয়া অফিস। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গতকাল শনিবার কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি সারাদেশের মধ্যে শনিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এই মাসে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। কুয়াশার চাদর ভেদ করে দেরিতে সূর্যের দেখা মিললেও তীব্র ঠান্ডার কারণে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়। উপজেলা মেডিকেল টিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বন্যায় বসতবাড়ি হারানো কয়েক হাজার মানুষ অসহায় জীবনযাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে জেলার চরাঞ্চলের সাড়ে চার শতাধিক মানুষ। একটু উষ্ণতা পাওয়ার আশায় গ্রামাঞ্চলের শীতবস্ত্রহীন মানুষ তাকিয়ে থাকছেন সূর্যের আলোর দিকে। সারাদিন ঠান্ডার তীব্রতার কারণে হাটবাজারেও লোকসমাগম অনেকটাই কম দেখা গেছে। এদিকে ধুম পড়েছে লেপ-তোশক তৈরির। হতদরিদ্র মানুষ ফুটপাতের দোকানগুলোতে পুরান কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন। পাঁচগাছির মাঝেরচর এলাকার রিকশাচালক ছামাদ জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডায় সকাল থেকে রিকশা বের করার সাহস পাইনি। যাত্রীও থাকে কম। একই ইউনিয়নের নওয়াবস এলাকার বৃদ্ধ আবেদ আলী বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে কোনো কাজকর্ম করতে পারছি না। ঠান্ডায় আমার মতো বৃদ্ধদের চলাফেরা করা কষ্টকর। পৌর শহরের জিয়াবাজার এলাকার সাইকেল মেকার মাইদুল জানান, খোলা আকাশের নিচে ঠান্ডায় বসে কাজ করছি। দুদিন ধরে সর্দি ও জ¦রে ভুগছি। যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা দুর্গম। এখানে প্রায় ১০টি চর রয়েছে। ইউপির চরে বসবাসকারী শীতার্ত মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তিনি আরও বলেন, আমার ইউনিয়নে ছয় হাজার দুশ’র অধিক পরিবার রয়েছে। আমাকে সরকারিভাবে কম্বল দেয়া হয়েছে মাত্র চারশটি। সেগুলো চরাঞ্চলের চারশ বয়স্ক পুরুষ ও নারীর তালিকা করে তাদের মাঝে বিতরণ করেছি। বাকিদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। নাগেশ্বরীর ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগে ৪৫০টি কম্বল আমার ইউনিয়নের জন্য সরকারিভাবে পেয়েছি। তালিকা করে সেগুলো ইউনিয়নের শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র পাইনি। বিভিন্ন এনজিও এবং সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করছি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, শীত নিবারণের জন্য প্রতিটি উপজেলায় সাত লাখ টাকা করে বরাদ্দ এসেছে। এ ছাড়া জেলার কর্মহীনদের জন্য ১০ হাজার প্যাকেট খাদ্যশস্য পেয়েছি।