বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন মুন্না তালুকদার!

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন মুন্না তালুকদার!

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সমীকরণ পাল্টে যেতে শুরু করেছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ঘটছে নানা নাটকীয় ঘটনা। নির্বাচনী হাওয়ার নাটকীয় আগুনে পুড়ছে বসতঘর। স্থানীয়দের ধারনা- এসব ঘটছে চেয়ারম্যান পদের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াদুদ খন্দকার টিটু ও ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদারকে কেন্দ্র করে। দুজনের আওয়ামী লীগদলীয় মনোনয়ন এবং সহানুভূতি আদায় করে জনসমর্থন বাগাতে বসতঘরে আগুনসহ বিভিন্ন ধরণের আলামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে- আওয়ামী লীগদলীয় মনোনয়ন পাবেন না নিশ্চিত হয়েই নির্বাচনী চোরাইগলি খুঁজছেন ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদার। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার মনুর প্রথম স্ত্রী চেয়ারম্যান মুন্না তালুকদারের মা ফেরদৌসী রাজ্জাক তালুকদারের হাটে হাড়ি ভাঙার মতো একটি অডিও রেকর্ডে রহস্যজনক আচরণে বিতর্কীত পরিবারটির মুখোশ উম্মোচনের পাশপাশি খোলাসা হয়ে পড়ছে কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সমীকরণ। আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী টিটু খন্দকারের ভাই ফাহাদ খন্দকারের সাথে মুন্নার মা ফেরদৌসী রাজ্জাক তালুকদারের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডে পাওয়া গেছে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য। মোবাইল ফোনে ফাহাদ খন্দকারকে মুন্নার মা ফেরদৌসী রাজ্জাক বলছেন- খন্দকার পরিবার সব সময় তাদের পাশে ছিলো। গত কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনেও তারা তার পুত্রকে আর্থিক সহযোগীতা করেছে। তিনি বলেন, মুন্নার বাবা (প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার মনু) কেনোদিন কারো সাথে বেঈমানী করেননি। বিগত ২০১০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল আলম চুন্নুর নির্বাচন না করে বিদ্রোহী প্রার্থী পারভীন তালুকদারকে সমর্থন করায় ওই সময় মুন্নার পিতা আব্দুর রাজ্জাক মনু তালুকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।’ ফেরদৌসী আরো বলেন- পারভীন তালুকদার মনু তালুকদারকে তিনি চেয়ারম্যান না থাকাকালীন সময় প্রতিমাসে ২০হাজার করে টাকা দিয়েছেন। ফেরদৌসী দাবী করেন- একারণে পারভীন তালুকদারের সাথে মুন্নার পিতা মনু তালুকদার বেঈমানী করেননি। দল থেকে বহিষ্কার হবে জেনেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পারভীন তালুকদারের পক্ষে কাজ করেছেন। ফেরদৌসী প্রচ্ছন্ন হুমকী দিয়ে মোবাইল ফোনে আরো বলেন- ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলেও আমার ছেলে মুন্না স্বতন্ত্র নির্বাচন করবে।’ নির্বাচন কাকে বলে বুঝিয়ে দিতে তিনি নিজে মাঠে থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্নার মা ফেরদৌসি রাজ্জাক তালুকদার বলেন, ফাহাদ খন্দকারের সাথে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ফোনে তাদের মধ্যে যে আলাপ হয়েছে এটা নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না’র নানা ধরণের ফন্দিফিকির এবং অপকৌশল ধরা পড়ায় আওয়ামী লীগদলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবী অনুযায়ি, মুন্না তালুকদারের এসব অপকৌশলে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি এমনকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।