বাউফল থানার ওসির ‘আনন্দ উদযাপন আসামিদের নিয়ে

বাউফল থানার ওসির ‘আনন্দ উদযাপন আসামিদের নিয়ে

¤ বাউফল থেকে ফিরে (মো.রানা সন্যামত)

পটুয়াখালিতে বাউফল থানা পুলিশের আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠানে দ্রুত বিচার আইনের মামলার চার আসামিসহ মাদক ও ছিনতাই মামলার আসামিরাও যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (০৮ মার্চ) বিকেলে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাউফল থানা পুলিশ। সে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মামলার আসামিরা শুধু যোগদানই করেনি, তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে ছবিও তোলে। আর সেই ছবি ফেসবুকে পোষ্ট করে ওসির প্রশংসা করে। মুহুর্তেই ওই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ফলে মামলার সঠিক তদন্ত হবে না এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে বাদীপক্ষের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করায় ‘আনন্দ উদযাপন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাউফল থানা পুলিশ। সে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন একটি দ্রুত বিচার আইনের ধারার চার আসামিসহ মাদক ও ছিনতাই মামলার আসামিরা। যাদের কেউই জামিনে নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বটকাজল গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মিজান মৃধার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় মো. ফয়েজ বিশ্বাসের (২৫) নেতৃত্বে ১৮-১৯ জনের একটি দল। সেসময় হামলাকারীদের ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মিজানের বড় ভাই শাহিন আলম (৪০)।
ওই ঘটনায় পটুয়াখালীর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে মিজান নিজে বাদী হয়ে নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-সাতজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে নালিশি অভিযোগ করেন ১৮ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে বাউফল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন বাউফল থানার ওসি নিজেই।
রোববারের আনন্দ উদযাপনের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্রুত বিচার আইনের মামলার তালিকার ১ নম্বর আসামি মো. ফয়েজ বিশ্বাস (২৫), ২ নম্বর আসামি মো. মামুন হাওলাদার (৩২), ৩ নম্বর আসামি মো. কবির মৃধা (৩০), ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান দফাদার (৩০) ও ১০ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন খানসহ (৩০) তাদের সমর্থিত অনেকেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে দুবার গ্রেপ্তার হন আসামি কবির। দীর্ঘদিন ছিলেন কারাগারেও। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে, ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন অপর আসামি হাসান।
ফেসবুকে পোস্ট করা ওই ছবিতে দেখা যায়, বাউফল থানার ওসি বাঁ পাশে ফয়েজ ও মামুন এবং ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন হাসান, কবির, আলাউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন।
ফয়েজ বিশ্বাস তার আইডি থেকে সেলফির ক্যাপশনে লিখেছেন, একজন সৎ পুলিশ অফিসার, স্যার আপনার হাতেই নিরাপর আমাদের বাউফল। স্যারের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
মামলার সঠিক তদন্ত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে ওই মামলার বাদী মিজান মৃধা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনেও আসামিদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। আসামিদের হুমকিতে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত। তিনি জানান, তিনি থানার ওসির সঙ্গে আসামিদের সখ্যতার ছবি দেখে হতভম্ব ও মামলার সঠিক তদন্ত নিয়ে শঙ্কিত ।
এদিকে থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আমার সঙ্গে তুলেছেন ছবি ও সেলফি। তাদের মধ্যে কে আসামি, কে আসমি না তা আমি চিনতে পারিনি।