পেট্রোল পাম্পের ডিজিটাল মেশিনেও কারচুপি

পেট্রোল পাম্পের ডিজিটাল মেশিনেও কারচুপি

স্টাফ রিপোর্টার::
হাতে বা সনাতন পদ্ধতির ওজনে কারচুপির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তবে এখন ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্রেও কারচুপি হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওজন ও পরিমাপে কারচুপির অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা ও চারটি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ এর বিধান অনুযায়ী এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় এবং সাভার ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় স্কোয়াড অভিযানের মাধ্যমে মামলা দায়ের করা হয়।

আজ বুধবার (১০ মার্চ) মিরপুর ও মোহম্মদপুরে এবং ৯ মার্চ কালিয়াকৈরে অভিযান পরিচালনা করে বিএসটিআই। এই অভিযানে বিএসটিআই’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রাশিদা আক্তার এর নেতৃত্বে পরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন ও মো. ইনজামামুল হক এবং স্কোয়াড অভিযানে পরিদর্শক মো. রফিক আজাদ ও পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে
মিরপুর এলাকায় বিএসটিআই’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় মেসার্স শফিক ট্রেডার্স ভেরিফিকেশন সনদ ছাড়া একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্কেল ব্যবহার করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে মেসার্স এস এস কর্পোরেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকার মেসার্স প্যারাডাইস সুইটস ও মেসার্স ভাগ্যকুল সুইটস অ্যান্ড বেকারি প্রতিষ্ঠান দুটির পণ্যের মোড়কে ওজন, মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় ও ভেরিফিকেশন সনদ ছাড়া ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করায় যথাক্রমে ১০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আসাদ গেট এলাকার মেসার্স সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এর ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাইকালে সবগুলো ইউনিট পরিমাপে সঠিক পাওয়া যায়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিএসটিআই ও পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে সাভার ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় একটি স্কোয়াড অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সাভার এলাকার মেসার্স নবীনগর সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন জ্বালানি তেল পরিমাপে একটি অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১০২০ মিলিলিটার, মেসার্স আজিজ ফিলিং স্টেশন দুটি অকটেন ও একটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রত্যেকটিতে প্রতি ১০ লিটারে ৩১০ মিলিলিটার, মেসার্স সম্ভার ফিলিং স্টেশন একটি অকটেন ও একটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রত্যেকটিতে প্রতি ১০ লিটারে ৩৬০ মিলিলিটার করে কম দেওয়া হচ্ছে বলে দেখা যায়।

পেট্রোল পাম্প তিনটি বিরুদ্ধে পরিমাপে কারচুরির অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়। একই অভিযানে গাজীপুর জেলার মেসার্স ভূমি সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশন জ্বালানি তেল পরিমাপে তিনটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে যথাক্রমে ৫০, ৪৩০ ও ৫৫০ মিলিলিটার করে কম প্রদান করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।