মোটরসাইকেলে ধাক্কা কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

মোটরসাইকেলে ধাক্কা কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। এ সময় ছুরিকাঘাতে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান জখম হন। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের সাতমাথায় টেম্পল রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কয়েকজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাকবির ও আবদুর রউফ গ্রুপের মধ্যে মারামারিতে দুই জন আহত হয়েছেন। পরে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস মীমাংসা করে দিয়েছেন। শুক্রবার (১২ মার্চ) সকাল পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ধুনটের শহীদ মিনার ও মুজিব মঞ্চ চত্বরে উপজেলা ছাত্রলীগ দুই গ্রুপ একই সময় সমাবেশের ডাক দেয়। এ নিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে ওইদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। সেখানে যাওয়ার পথে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলাম খানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে জেলা কমিটির সদস্য জাহিদ হাসানের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে দুই নেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে ধুনট থেকে সন্ধ্যায় বগুড়া শহরে ফেরার পর রাত ৯টার দিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ ও তার লোকজন জাহিদ হাসানের পক্ষ নিয়ে তাকবির হাসান ও তার সমর্থকদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে রউফের সমর্থকরা তাকবির ও তার পক্ষের ওপর হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় তাকবিরকে ছুরিকাঘাত ও অন্যদের মারপিট করা হয়েছে।
গুরুতর আহত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলামকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী শান্ত, ইমন, সাজিদ ও হাবিব এবং রউফ গ্রুপের জেলা ছাত্রলীগের সদস্য জাহিদ হাসান, ছাত্রলীগ কর্মী সানজিদ, দুলাল ও রাজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ছাত্রলীগ নেতা তাকবিরের সমর্থকরা জানিয়েছেন, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রউফের নেতৃত্বে সাতমাথায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তুচ্ছ ঘটনায় তাকবিরের নেতৃত্বে তার লোকজন আমাকে (রউফ) ও কয়েকজন কর্মীকে ধাওয়া করেন। এতে হাতাহাতির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। রউফ আরও জানান, জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন আসন্ন। তিনি যাতে ভালো পদ না পান সে জন্য পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এ হামলা ও দোষারোপ করা হয়েছে।
হাসপাতালে দেখতে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, তাকবির ইসলামকে ছুরিকাঘাত ও মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তিনি এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস জানান, এটা দলীয় কোনও কোন্দল নয়। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে দুই জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তিতাস মীমাংসা করে দিয়েছেন। তাই শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।
এর আগে গত ১০ মার্চ দুপুরে শহরের টেম্পল রোডের দলীয় কার্যালয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। একদিন পর ছাত্রলীগের মধ্যে এ অপ্রীতিকর ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।