কাদের মির্জা কি আটক হবেন? সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল কারাগারে, থমথমে বসুরহাট

কাদের মির্জা কি আটক হবেন? সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল কারাগারে, থমথমে বসুরহাট

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
আলোচিত সমালোচিত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা কি গ্রেফতার হবেন- এ নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। এদিকে বাদলকে পুলিশ গ্রেফতার করে একাধিক মামলায় জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। সার্বিক ঘটনা নিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বসুরহাটে। বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সিএনজিচালক আলাউদ্দিন মঙ্গলবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

এ ঘটনায় আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে এজাহার দাখিল করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে দুই দিন পরেও মামলা রেকর্ড করেনি। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালী গ্রামে নিহতের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা মরিয়মের নেছা ও ছোট ভাই এমদাদ হোসেন এ হত্যাকান্ডের জন্য বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জাকে দায়ী করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও নিহতের পরিবারের হত্যা মামলা পুলিশ রেকর্ড না করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিহতের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় মামলা নিয়ে আমি থানায় যাই। পরে আমি মামলার এজাহারটি ওসি সাহেবকে দিয়েছি। দেওয়ার পর কাদের মির্জার নাম দেখার পর ওসি সাহেব বলেন, মির্জার নামটি কেটে দিলে মামলা নেবেন।

কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করায় পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এখন থানায় মামলা রুজু না করায় নিহতের পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করবে বলে জানানো হয়। অপর দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াতের ওপর কাদের মির্জা ও তার লোকজনের হামলার ঘটনায় তার স্ত্রী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভিন বাদী হয়ে কাদের মির্জা ও তার ছেলেসহ ৬০ জনের বেশি লোকের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করলে পুলিশ তিন দিন পরেও মামলা রেকর্ড করেনি বলে তিনি সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেছেন।
বাদলের মুক্তি দাবি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নিঃশর্ত মুক্তি চাইলেন তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালী গ্রামে নিজ বাড়িতে বাদলের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তার দুই বোন ও মাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন আবদুল কাদের মির্জা তার জনপ্রিয়তা সহ্য করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র করে প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করেছেন। অথচ আমাদের লোকজন খুন হয়ে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ এখনো সে মামলা রেকর্ড করেনি। উল্টো আমাদের মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করছে।

থমথমে বসুরহাট : মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বসুরহাট বাজারের রুপালি চত্বরে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। পরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভায় আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীরা সভার একেবারে শেষ মুহূর্তে ককটেল ও গুলি ছোড়ে এবং সভার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ করে নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ সময় সভাস্থল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এক হয়ে মির্জা কাদেরের অনুসারীদের প্রতিরোধ করতে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে পুরো বসুরহাট বাজারজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।