কামিল মাদ্রাসাকে ফাজিল দেখিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ, হাইকোর্টের রুল

কামিল মাদ্রাসাকে ফাজিল দেখিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ, হাইকোর্টের রুল

মো:রানা সন্যামত:
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ কামিল মাদ্রাসায় অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ হয়েছে, এমনটা প্রমাণ হওয়ার তিন মাস পেরোলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। অবৈধ অধ্যক্ষকে বহাল রাখতে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি ও অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপাও দিয়েছেন।

নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদন করেন অভিভাবক মো. লিলু মিয়া। গত ১৮ মার্চ ওই রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন অধ্যক্ষ নিয়োগ অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘চার সপ্তাহের মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের সিলেট বিভাগের পরিদর্শক মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আলম বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে আছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো না। ‘ঊর্ধ্বতন’ পর্যায়ে কথা বলার পরামর্শ দেন পরিদর্শক মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আলম।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা অধিদফতরের মহাপরিচালক কে. এম রুহুল আমীন এ প্রতিবেদককে পরিদর্শক মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ফেরদৌসী আলমের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারবো না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ মডেল কামিল মাদ্রাসায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ না করেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে সাহাব উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন অভিভাবক লিলু মিয়া।

অভিযোগে বলা হয়, মো. সাহাব উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা কামিল হওয়া সত্ত্বেও ফাজিল স্তর দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ অনিয়ম করে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছে। এই অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সরেজমিন তদন্ত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রমাণও পায়।

এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. সাহাব উদ্দিন মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে বলেন, ‘এমপির সঙ্গে বৈঠকে আছি। এখন কথা বলতে পারবো না।’ পরে কথা বলবেন কিনা তা-ও নিশ্চিত করেনি তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিজেন ব্যানার্জী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন জেলা প্রশাসকের কাছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক অধ্যক্ষ সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেন।

সবশেষ চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শক (সিলেট বিভাগ) মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আলম স্বাক্ষরিত পত্রে অধ্যক্ষ হিসেবে মো. সাহাব উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষকে তৎক্ষাণিক ব্যাখা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

অধিদফতরের এই চিঠির পর বলতে গেলে সবই চাপা পড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি কিংবা অধিদফতর কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা তা কোনও পক্ষই স্পষ্ট করেনি।

এই ঘটনার পর কয়েক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নির্বাচিত কোনও কমিটিও নেই। অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে মাদ্রাসাটি।