বাড়বে লিচুর উৎপাদন, মিলবে কোটি টাকার মধু!

বাড়বে লিচুর উৎপাদন, মিলবে কোটি টাকার মধু!

গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরের লিচু বাগানগুলো এখন ফুলে ফুলে ভরা। গাছের নিচে সারি সারি মৌ-বাক্স। এ মৌসুমে লিচুর ফুল থেকে তিনবার মধু সংগ্রহ করেন মৌ-চাষীরা। ইতোমধ্যে দুবার সংগ্রহ শেষ হয়েছে। লাভজনক এ চাষে আগ্রহীর সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসান বলেন, উপজেলায় ৭২৭ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। চলতি বছর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮’শ ৯০ মেট্রিক টন।

মুলাইদ গ্রামের মৌচাষী মোহাম্মদ আলী বলেন, শ্রীপুরে যে পরিমাণ লিচু বাগান রয়েছে তাতে এক বসন্তেই কয়েক শ’ টন মধু পাওয়া সম্ভব। যা বিক্রি করা যাবে কয়েক কোটি টাকায়।

তিনি বলেন, এবার ফুল ফোটার পর ঠান্ডা আবহাওয়া ও একদিন বৃষ্টি হওয়ায় লিচুর মধু সংগ্রহের পরিমাণ কমেছে। গতবছর ফুল ফুটেছিল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে। এবার মার্চের প্রথম দিকে ফুটেছে। আবার গতবছর এ সময় বৃষ্টিও হয়নি। এসব না ঘটলে এবার মধু আসতো আগের চেয়ে তিনগুণ।

মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, বসন্তের আবহাওয়া বৃষ্টি ও ঠান্ডামুক্ত থাকলে প্রতি এক শ’ বাকশে প্রায় এক টন মধু পাওয়া যায়।

পৌরসভার কেওয়া গ্রামের লিচু বাগান মালিক নূরুল আলম বলেন, গত বেশ কয়েক বছর ধরে লিচু গাছে ফুল ফোটার পর কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। কৃষি অফিসের পরামর্শে লিচুর গুটি হলে কীটনাশক দেওয়া হয়। এতে মৌ-চাষীদেরই সুবিধা।

গ্রামের আরেক বাগান মালিক ফরিদ হুসেন আকন্দ বলেন, বাগানে মৌচাষীরা বাক্স স্থাপন করায় পরাগায়নও বেশি হয়। এতে এবার লিচুর উৎপাদনও কমপক্ষে ২৫ ভাগ বাড়বে বলে আশা করছি।

এদিকে, মৌচাষীরা বলছেন, প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না। বাক্স থেকে ফ্রেম বের করে মধু ছেঁকে আবার বসাতে হয়। অপ্রশিক্ষিত লোকের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করতে গেলে মৌমাছির ক্ষতি হয়। চাকে মধু থেকে যায়, ডিম ও লার্ভা মারা যায়। আর তাই মধু সংগ্রহে বসন্তের এ সময়ে শ্রীপুর উপজেলায় দুই শতাধিক প্রশিক্ষিত শ্রমিক দুই মাসের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও পেয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণের হার বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে মনে করেন চাষীরা।

পিরুজালী গ্রামের মৌচাষী সজীব বলেন, প্রশিক্ষণের পর ২৫ হাজার টাকার ঋণ সুবিধা আছে। এ টাকায় মাত্র ৫টি বাক্স বানানো যায়। পরে অবশ্য সফলতার ওপর ভিত্তি করে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়। তবে শুরুতেই ঋণ আরেকটু বেশি পেলে অনেকে এ কাজে আগ্রহী হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, মৌচাষীদেরকে আমরা বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেই। আগে কিছু লিচু চাষী বাক্স বসাতে অনাগ্রহ দেখাতো। তারা ভাবতো মৌ-বাক্স লাগালে বুঝি লিচুর ক্ষতি হবে। কিন্তু কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়। বাক্স থাকলে লিচুর ক্ষতি তো হবেই না, বরং পরাগায়ন বেড়ে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি মধুও পাওয়া যাবে।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের গাজীপুরের উপ-ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম জানান, মহামারির আগে মৌচাষে জড়িত ৯০ জন চাষীকে ৬টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আরও একটি প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মহামারি শুরুর পর থেকে আর প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।