শপিং মলে স্বাস্থ্যবিধি মানাবে কে। মানবতারকণ্ঠ

শপিং মলে স্বাস্থ্যবিধি মানাবে কে। মানবতারকণ্ঠ

মানবতারকণ্ঠ রিপোর্ট:
রাজধানীর শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। যে যার মতো ছুটে চলছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। ক্রেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে নজরদারি করতে দেখা যায়নি শপিং মল কর্তৃপক্ষকেও। কোথাও নামমাত্র হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা রয়েছে, কোথাও তাও নেই‌‌।

শনিবার (১ মে) রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের সমাগমে মুখর প্রতিটি দোকান। যে যার মতো কেনাকাটায় ব্যস্ত। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও বালাই নেই। ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকলেও বিক্রি তেমন নেই।

মিরপুর ১ নম্বরে বাগদাদ শপিং সেন্টারের মার্কেটের রনি এন্টারপ্রাইজের এক কর্মচারী জানান, শুক্রবার এবং শনিবার মার্কেটে আসা লোকজনদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। গত দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি, তাই কেনাকাটার জন্য এসেছেন তারা। কিন্তু অনেকেই জিনিসপত্র দেখছেন, কেনাকাটার লোকজনের সংখ্যা কম।

লিমা বস্ত্রালয়ের এক কর্মচারী জানান, আমরা যতটুকু স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোকজনদের দোকানের ভেতরে ঢোকাচ্ছি। কিন্তু অনেক সময় তা মেইনটেন করা হয়ে ওঠে না। তিনি দোষ চাপান ক্রেতাদের ওপর।

মার্কেটে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা এসেছেন নতুন জামা কিনতে। ঘুরে দেখছেন, পছন্দ হলে কিনছেন। করোনা ভীতি থাকলেও মার্কেটে এসেছেন তারা ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় কসমেটিক জুতো কিনতে। তাদের দাবি, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা মার্কেটে এসেছেন।

এদিকে রাজধানীর মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে দেখা মেলেনি মার্কেট কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নজরদারি। সরকারের নির্দেশনা সেখানে উপেক্ষিত। তবে বাগদাদ শপিং সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক আমির মোল্লার দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কাজ করছেন তারা। তবে তদারকির বিষয়ে গাফিলতি রয়েছে সে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার বিষয়ে দায় চাপান ক্রেতাদের ওপর। এছাড়া শ্যামলী স্কয়ার, মিরপুর ১০ নাম্বারের মার্কেটগুলো ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

এসব বিষয়ে মিরপুর বিভাগের ডিসি আ স ম মাহতাব উদ্দিন মানবতার কণ্ঠকে বলেন, নিয়মিত মনিটরিং চলছে। এছাড়া মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়টি অবহিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয় ছাড়াও মার্কেট কেন্দ্রিক চুরি, ছিনতাই কিংবা যেকোনও অপতৎপরতা ঠেকাতেও পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

মার্কেটগুলোতে যেভাবে চলছে নিরাপত্তা

রাজধানীর বেশ কিছু মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে নেই পুলিশের উপস্থিতি। মার্কেট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুক্ষণ পর পর পুলিশ গাড়ি নিয়ে টহল দিতে আসে। কিন্তু সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী মার্কেটগুলোতে অবস্থান করে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি অপরাধমূলক যেকোনও কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কাজ করার কথা তাদের।

মিরপুর নিউ মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড আমির হোসেন বলেন, থানা পুলিশের গাড়ি কিছুক্ষণ পরপর শপিং মলের সামনে এসে টহল দেয়। আবার চলে যায়। যখন পুলিশ থাকে তখন জনগণের মধ্যে একটু সচেতনতা থাকে। পুলিশ না থাকলে জনগণের মধ্যে সচেতনতাও কমে যায়।

ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন মার্কেটের গেটে। মাস্ক ছাড়া যারা মার্কেটে ঢোকার চেষ্টা করছেন তাদের সচেতন এবং মাস্ক বিতরণ করছেন পুলিশ সদস্যরা।

এছাড়া অন্যান্য মার্কেটের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশি নিরাপত্তা এবং অবস্থান যদি মার্কেটের সামনে থাকে তাহলে মানুষের অনেকটাই সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মার্কেট কেন্দ্রিক চুরি-ছিনতাইর মতো ঘটনাও কমে যায়। শপিং মলগুলোতে পুলিশি অবস্থান নিশ্চিত করার কথাও বলেন তারা।

এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন মানবতার কণ্ঠকে বলেন, জনগণকে সচেতন করতে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিটি শপিং মলের সভাপতি সেক্রেটারি এবং অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। পুলিশি অবস্থান নিশ্চিতের জন্য স্থানীয় থানা এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণ যদি মাস্ক না পরেন, আমরা তো আর আইনের আওতায় আনতে পারি না। সেজন্য ম্যাজিস্ট্রেটের প্রয়োজন। আমরা শুধু সচেতনতার জন্য কাজ করে যেতে পারি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত। যদি আপনি আমি সচেতন না হই, তাহলে কোনও কিছু সম্ভব নয়।