গণপরিবহন ছেড়ে দেওয়ায় সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজট- মানবতার কণ্ঠ:

গণপরিবহন ছেড়ে দেওয়ায় সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজট- মানবতার কণ্ঠ:

মানবতারকণ্ঠ রিপোর্ট
বাড্ডা থেকে কাওরান বাজারে দেড়ঘণ্টাতেও পৌঁছাতে পারেননি শোভন। চাকরির কারণে করোনার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হয়েছেন তিনি। প্রায় ২০ দিন পর এতটা সময় বসে থাকতে হলো তাকে। গণপরিবহন চালু হওয়ায় ঈদ শপিংয়ে সবাই যেন বের হয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বাস ছেড়ে দেওয়ায় মানুষ বের হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলো, কারোর মাথায় আর করোনা নেই। এটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত হলো কিনা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। কিন্তু ভিড় দেখে আমার ভয় করছে।’ মুভমেন্ট পাস দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এসবের আর কী দরকার সেটাই বুঝছি না।’

কলাবাগান থেকে নিউমার্কেট পৌঁছাতে পৌনে একঘণ্টা লেখেছে শফিউর রহমানের। গাড়ি যেন নড়তেই চায় না। রাস্তার দুই ধারেই গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। নেমে যে হেঁটে যাবেন গন্তব্যে সেই উপায়ও নেই। করোনার কারণে রাস্তায় নেমে পড়া নিরাপদ মনে করেননি। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে অপেক্ষায় থেকেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর দিয়ে মিরপুর রোডে বের হবেন সামিন। ওইটুকু পথে চারবার সিগন্যাল পড়লো। কোনো মতে মিরপুর রোডে উঠে সায়েন্সল্যাবের দিকে রওনা হতে দেখেন, ফিরতি পথে সব গাড়ি স্টার্ট বন্ধ করে বসে আছে। এলিফ্যান্ট রোড পর্যন্ত চারটা সিগন্যালের প্রত্যেকটিতে অপেক্ষা করে দেড়ঘণ্টা পর বাটার সিগন্যালে পৌঁছাতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হলো, বাস এখনও সব নামেনি। কিন্তু মানুষ যে হারে রাস্তায় নেমেছে, তাতে মনেই হচ্ছে না কোনও মহামারির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের।’

শুক্রবার ছুটির দিন হলেও সিগন্যালগুলোতে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন
অর্ধেক না সব সিটেই যাত্রী

বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল থেকে রাজধানীতে গণপরিবহন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল থেকে রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। এরমধ্যে পরিবহন শ্রমিকরা কয়েক দফায় আন্দোলনের চেষ্টা করলেও সরকার কঠোরভাবে সেসব মোকাবিলা করেছে। সবদিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসসহ সকল গণপরিবহন খুলে দেওয়া হলেও প্রথম দিনে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। বাসে প্রতিটা সিটে যেমন যাত্রী নেওয়া হয়েছে, তেমনই দ্বিগুণ ভাড়াও হাঁকানো হয়েছে। এ নিয়ে দিনভর বাকবিতণ্ডায় কেটেছে। বাসের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে মাহমুদুল বলেন, ‘বাস কোথাও চেক হয় না। গেট লাগানো থাকে ঠিকই, কিন্তু সিট না থাকলেও রাস্তা থেকে লোক তোলা হচ্ছে এই বলে যে, রোজার সময় মানুষ হয়রানি হবে নিয়ে নেন।’

টেকনিকাল মোড়ে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মোহাম্মদপুরগামী প্রজাপতি পরিবহন, পরিস্থান পরিবহন, সাভার পরিবহন, বৈশাখী পরিবহন, লাব্বাইক পরিবহন ছাড়াও অনেক বাসেই দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। পাশাপাশি সিটে বসানো হচ্ছে যাত্রীদের। জানতে চাইলে অনেকেই এ বিষয়টি এড়িয়ে যান। লাব্বাইক পরিবহনের চালক ইসরাফিল বলেন, ‘আমাদের মালিকরা কোনও জীবাণুনাশক স্প্রে দেয়নি। বা কী করতে হবে সে বিষয়েও এবার আমাদের কিছু বলেনি।’ পাশাপাশি দুই সিটে যাত্রী পরিবহন করলেও পরিবারের সদস্য তাই একসঙ্গে বসেছে বলে জানান তিনি। তবে যাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, তারা একে অপরের পরিচিত নন।

সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ মানছেন না কেউ
সারা শহর ঘুরে দেখেছেন দাবি করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ মানবতারকন্ঠকে বলেন, ‘আমি ঘুরে দেখেছি, যাত্রী ও চালকরা মাস্ক পরেছেন। তবে স্যানিটাইজারের বিষয়টা চোখে পড়েনি। ১০ শতাংশ গাড়ি অনিয়ম করে থাকলে শতভাগ গাড়িকে দায়ী করতে পারেন না।’ তিনি বলেন, ‘বিআরটিএ’র ৯টি মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে। আমরা গতকাল তাদেরকে কিছু সুপারিশ দিয়েছি। আমরা মাস্ক ব্যবহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। মাস্ক ব্যতীত কোনও যাত্রীকে গাড়িকে যেন ওঠানো না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের মনিটরিং চলবে। আশা করছি, বিআরটিএ টিম ঠিকমতো কাজ করলে এবং আমরা মনিটরিং অব্যাহত রাখলে, সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ পালিত হবে গণপরিবহনে।’