পেঁয়াজের দাম কমলো- মানবতারকণ্ঠ

পেঁয়াজের দাম কমলো- মানবতারকণ্ঠ

মানবতারকণ্ঠ ডেস্ক:
ভারতে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫ টাকা বাড়লেও দেশের বাজারে এর তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। রবিবার (১৬ মে) থেকে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ঈদের আগে কেজিতে ৫ টাকার মতো বাড়লেও ঈদের পর বাড়েনি। রাজধানীর কাওরান বাজার, মগবাজার, মালিবাগ বাজার ও গোপীবাগ বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় ক্রেতাদের পেঁয়াজের দাম নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। তাদের দাবি, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তি, তবে দেশি দাম কমে আসায় সার্বিকভাবে বাজার স্থিতিশীল।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ী রতন কুমার বলছেন, ঈদের পর ক্রেতা কম। পেঁয়াজের চাহিদাও কম। ঈদের পর যেটুকু চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা দেশি পেঁয়াজেই পূরণ করা যাচ্ছে। তিনি জানান, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা কমে গেছে। যে পেঁয়াজ ঈদের আগের দিন ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে এখন সেই পেঁয়াজ ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ঈদের আগের দামেই অর্থাৎ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগেই এই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। ঈদের দুই দিন আগে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত (ঈদের দুইদিন) আগে থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিল আমদানি করা পেঁয়াজ।

এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবি’র তথ্যও বলছে, ঈদের পর কোনও পেঁয়াজের দামই বাড়েনি। বরং ঈদের পর খুচরা পর্যায়ে রবিবার (১৬ মে) থেকে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭ শতাংশ কমেছে। আর আমদানি পর্যায়ের পেঁয়াজের দাম ঈদের আগে অর্থাৎ ১২ মে বেড়েছে ৭ শতাংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিক্রেতারা ঈদে বাড়িতে যাওয়ার কারণে রাজধানীর পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, পেঁপেসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেই ঈদে বাড়িতে যাওয়ার কারণে মহল্লার সবজির দোকান বা ভ্যানে বিক্রি হওয়া সবজির দোকান ঈদের দিন থেকে বন্ধ। ফলে দোকান না থাকার কারণে গত দুই দিন কোনও কোনও অসৎ ব্যবসায়ী ৪০ টাকা কেজি কাঁচামরিচ ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। পেঁয়াজের দামও বাড়িয়ে বিক্রি করেছেন কেউ কেউ। ঈদের আগে মানিক নগর বিশ্বরোড থেকে পুকুরপাড় পর্যন্ত অন্তত ভ্যানে করে ২০ জন খুচরা ব্যবসায়ী সবজি ও পেঁয়াজ বিক্রি করতেন। সোমবার সেখানে ৫ জন বিক্রেতারও দেখা মেলেছে।

অবশ্য পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, করোনার বিধিনিষেধে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনা যাচ্ছে না। এ কারণে বাজারে ভারতীয় পেয়াজের দাম অচিরেই বেড়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. গোলাম মাওলা। তিনি বলেন, ঈদের পর নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়ে তার কাছে কোনও খবর নেই। তবে আমদানি পেঁয়াজের দাম বাড়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো অনেকটাই নিরুত্তাপ। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার দ্বিতীয় কার্যদিবসে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে খুব কম দোকান খুলেছে। ক্রেতার সংখ্যাও খুব কম।

এদিকে সবজি বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচা মরিচের দামও আগের মতোই আছে। তবে খরাজনিত কারণে কিছু কিছু এলাকায় কাঁচা মরিচ কম উৎপাদন হচ্ছে। যে কারণে দাম বাড়তে পারে। তবে রাজধানীর বাজারগুলোতে এখনও ৬০ টাকা কেজি কাঁচামরিচ মিলছে। কোথাও কোথাও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। আলুর কেজি মাত্র ১৫ থেকে ১৭ টাকা। শসার কেজি ৪০ টাকা।

আর লেবু আকারভেদে ২০-৩০ টাকা ডজন। কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা। অন্যান্য প্রায় সব সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে মুরগির দামও। সোনালিকা জাতের মুরগির কেজি ঈদের আগে ছিল ৩০০ টাকার ওপরে। এখন ২৫০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। ব্রয়লার মুরগিও ১৩০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ফলের দামও। তবে বাজারে আসা নতুন ফলগুলোর দাম বাড়তিই। ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। ছোট আকারের পাকা আম ১০০ টাকা কেজি।

এদিকে সোমবারও বিভিন্ন বাজারে অনেক দোকান বন্ধ দেখা গেছে। অধিকাংশ মুদি দোকানও খোলা হয়নি। দু-একদিন পর থেকে রাজধানীতে মানুষ পুরোদমে ফিরতে শুরু করলে বাজার আবার জমে উঠবে।