ভয়ংকর রূপে আমলারা,নারী সাংবাদিকে নির্যাতন- মানবতারকণ্ঠ

ভয়ংকর রূপে আমলারা,নারী সাংবাদিকে নির্যাতন- মানবতারকণ্ঠ

মানবতারকণ্ঠ রিপোর্ট:
ছবিটি এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথম আলোর জেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গলা টিপে ধরেছেন এক নারী। ঐ নারীর পরিচয় পাওয়া গেল। তিনি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম। একজন অতিরিক্ত সচিব, প্রজাতন্ত্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী। তিনি ৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা। উচ্চপদস্থ একজন আমলা এ ধরনের কাজ করতে পারেন, এটা ভাবতেই আমাদের হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়। আমলারা একজন মাস্তান হয়ে যাচ্ছে নাকি!

বাংলাদেশে গত এক দশকে আমলাদের বাড়বাড়ন্ত। আমলারাই নাকি এখন দেশ চালায় এমন কথা কান পাতলেই শোনা যায়। লকডাউনের ঘোষণা দেন আমলারা। জেলার দায়িত্বে সচিবরা। জেলার রাজা এখন জেলা প্রশাসক। তারা রুলস অব বিজনেসে সংসদ সদ্যদের চেয়ে কয়েক ধাপ নীচে। অথচ জেলায় জনপ্রতিনিধিদের পাত্তাই দেন না। কিছুদিন আগে, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড করেছিলেন এক জেলা প্রশাসক। বিনা সম্মতিতে ফোন রেকর্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তারপরও বহাল তবিয়তে আছেন ঐ জেলা প্রশাসক। কয়েকজন এমপি অভিযোগ করলেন ‘ জেলা প্রশাসকরা তাদের ফোন ধরেন না।’ আমলারা এখন নাকি মন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাবান।

আমলারা জনপ্রতিনিধি নন। জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতাও নেই। এখন আওয়ামী লীগ সেজে যে আমলারা ছড়ি ঘুরাচ্ছেন, তারা আদৌ সরকারের শুভাকাংখী কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে। আমলাতন্ত্রে দুর্বৃত্তায়ন ঢুকেছে এমন কথা নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তারা প্রায়ই বলছেন। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন প্রবেশের পর, রাজনীতিবীদদের কেউ কেউ মাস্তান পোষা শুরু করেছিলেন। মাস্তান দিয়ে এলাকায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছিলো অনেকের। এখন আমলাতন্ত্রেও দুর্বৃত্তায়ন প্রবেশ করেছে। আমলারা ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন। তারাই যেন মাস্তান। সব কিছু বাদ দিয়েও বলা যায়, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা একজন গণমাধ্যম কর্মীর ওপর চড়াও হতে পারেন, এটা ভাবতেও কষ্ট হয়। আমরা যদি তর্কের খাতিরেও ধরে নেই যে, রোজিনা ‘রাষ্ট্রের মহামূল্যবান তথ্য’ চুরি করেছিল, তাহলে তার গলা টিপে ধরতে হবে? এটি সভ্য রীতি মেনেই করা যেত। রোজিনার সঙ্গে কথা বলা যেত। তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা যেত। তার বিরুদ্ধে মামলা করা যেত। কিন্তু ৫ ঘন্টা আটকে রেখে তার সাথে যে বর্বরতা করা হয়েছে, তা অমানবিক, দুর্ভাগ্যজনক।

সরকারের ভেতর কিছু ব্যক্তি, অতিভক্তি দেখিয়ে সরকারের সর্বনাশ করছে। এরা সরকারকে বিতর্কিত করতে চায়। এদের ব্যাপারে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এরা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠবে।