জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে বরিশালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। মানবতারকন্ঠ

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে বরিশালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। মানবতারকন্ঠ

বরিশাল প্রতিনিধি:
আমরা কন্যাশিশু- প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বো, এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও আভাস এর সহযোগিতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বরিশাল এর আয়োজনে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়
বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়নের চরআবদানীর গ্রামের প্রধানমন্ত্রী আশ্রয় প্রকল্প -২ এর বালুর মাঠে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশালের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলারা খানম এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটি সনাকের সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা, আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর প্রগরাম অফিসার মো: আলামিন শেখ, বরিশাল সদর উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা সুশীপ্ত বড়াল, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা ফাহিদা আবিদিন, ৫নং চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী
তহমিনা আক্তার পরি (সমাজসেবী) সহ
সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং প্রধানমন্ত্রী আশ্রয় প্রকল্প -২ এর কন্যা শিশুরা ও অভিভাবক মায়েরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তৃতারা, কন্যা শিশুর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, কন্যা তুমি তুচ্ছ নও, নও তুমি ক্ষুদ্র, যদি তুমি জেগে উঠো। তবে করবে বিশ্ব জয়।

কবি নজরুলের ভাষায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালনে কন্যা শিশুর গুণগান গাইতে চাই। কন্যা শিশুর যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ তথা সুষ্ঠু বিকাশকে রেখেই জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন শুরু হয়। ইভ-টিজিং, এসিড সহিংসতা এবং যৌন নির্যাতনসহ কন্যা শিশুর প্রতি সকল সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল এ দিবসের লক্ষ্য। কতটুকু সফল হয়েছি তা বলা দুষ্কর। ফি বছর এ দিবস পালন হচ্ছে বলে এখনও কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা বন্ধ করতে পারিনি। প্রতিদিনের খবরের কাগজে একজন হলেও কন্যা শিশুর আকুতি ফুটে উঠে। শিশুরাই জাতীর ভবিষ্যৎ। সে ছেলে হোক আর মেয়ে হোক। একই আদলে শাসনে বেড়ে উঠলে কন্যা শিশুও সমভাবে অবদান রাখবে। এদের পরিপূর্ণ শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা করতে পারলে অবশ্যই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে বিশ্বটাকে রাখবে ভালো। এদের প্রতি দেশের অঙ্গীকার যথাযথ পূরণ করা অবশ্য কর্তব্য।

মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক বাল্য বিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এ দিবসের সূচনা হয়। ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর হতে এটা চালু হয়। ২০১৩ সাল হতে আমাদের দেশে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন শুরু হয়। কন্যা শিশু দিবসের উদ্দেশ্য সফল করতে তাদের প্রতি সব ধরণের অধিকার সমভাবে প্রদান করতে আমাদের বন্ধ পরিকর হতে হবে। নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলকে শিক্ষিত হতে হবে। তাই কিশোর বয়সে কাউকে বাল্য বিবাহ দিয়ে শিক্ষায় বাধার সৃষ্টি করা যাবেনা। সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ মুক্ত করতে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তারা। উন্নত জাতি,উন্নত দেশ গড়তে নারীদের গুরুত্ব অপরিসিম। নারী-পুরুষ সমতা বজায় রাখাতে হবে বলে সকলকে আহবান জানান।