সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত

সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় এবার তার স্বামী পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত এ আদেশ দেন। বাবুল নিজেই ওই মামলার বাদী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক মানবতারকণ্ঠ কে বলেন, বাবুল আক্তারের করা মামলার তদন্তে স্ত্রী মিতুর খুনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে গত ২৭ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ আদালত আদেশ দিয়েছেন।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী মানবতারকন্ঠ কে বলেন, ‘একদিকে স্ত্রী মিতু হত্যায় বাবুলের দায়ের করা পাঁচলাইশ থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন আদালত শুনানি শেষে মঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে তিনি (বাবুল) একই ঘটনায় মিতুর বাবার করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। এক ঘটনায় দুই মামলা চলতে পারে না। আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তার যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, সেটির তদন্ত শেষ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল পিবিআই। কিন্তু আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন না নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। মিতুর বাবার করা মামলাটিও তদন্ত করছে পিবিআই।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি। এ মামলায় এখন তাকেই গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পিবিআই।
জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মামলায় অভিযোগ করেছিলেন বাবুল আক্তার। তদন্তে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বছরের ১১ মে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন ১২ মে দুপুরে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার শ্বশুর অর্থাৎ নিহত মিতুর বাবা। মামলায় বাবুল ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম মুছা, কালু, ওয়াসিম, শাহজাহান, আনোয়ার, এহতেসামুল হক ভোলা ও সাকি।