ভুক্তভোগী বার্জ ফিরে পেলেও পায়নি ভাড়া। মানবতারকণ্ঠ

ভুক্তভোগী বার্জ ফিরে পেলেও পায়নি ভাড়া। মানবতারকণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক।
ফতুল্লার বক্তাবলীর গোপালনগরে বার্জ ভাড়া নেয়ার পর থেকেই সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিন ওরফে কালা জসিম বার্জ মালিককে টাকা না দিয়ে বিভিন্ন হয়রানী মুলক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জসিমের বিরুদ্ধে ।
এক পর্যায়ে বার্জ মালিক ৩ মাসের ভাড়া চাইতে গেলে তাকে তার উপরে হামলা করে  গুরুতর ভাবে আহত করে জসিম । বার্জ মালিক মোঃ বাদল বাদি হয়ে জসিম অরফে কালা জসিম এর বিরুদ্ধে ফতুল্লাহ মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন।

কিন্তু পুলিশ অভিযোগ পেয়েও জসিমের বিরুদ্ধে কনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। অভিযোগকারী বাদল হতাশ হয়ে সবশেষে  মানবতার মা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর সহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ পত্র জমা দিলে এবং বিভিন্ন  গন্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক  টনক নরে প্রশাসনের ।

এক পর্যায়ে প্রশাসনের বিভিন্ন চেষ্টার মাধ্যমে বার্জটি উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ দিকে বার্জ উদ্ধার হলেও অভিযোগকারী

বাদল ফেরত পাননি নিজের পারি শ্রমিক এর টাকা ও বার্জ ভাড়ার টাকা। পলাতক অবস্থায় রয়েছে জসিম অরফে ডাকাত জসিম। পুলিশ প্রশাসন অব্যহ্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই ভয়ানক সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করার জন্য।

হাজার অভিযোগ থাকার পরেও পুলিশের ধোরা ছোয়ার বাহিরে ডাকাত কালা জসিম। নৌপথে লঞ্চে ডাকাতি করার একাধিক চলমান মামলা ও রয়েছে ডাকাত কালা জসিম ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে। হত্যা, ডাকাতি বেপরোয়া দখলবাজি চাঁদাবাজি সহ জসিম এর বিরুদ্ধে রয়েছে অর্ন্তহীন অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে একাধিক ব্যাক্তি জানায় , ডাকাত কালা জসিম এক সময় নারায়ণগঞ্জ এলাকায় না খেয়ে দিন কাটতো তার। হঠাৎ পালটে যায় তার জীবন। আসতে আসতে শুরু করে তার অপরাধী জগতের নতুন এক সামরাজ্র। সন্ধ্যার পর এলাকার বখাটেদের নিয়ে চুরি ছিনতাই করতো। ছোট খাটো অপরাধ করতে করতে এক সময় যোগ দেয় স্থানীয় বখাটে গ্রুপের টিমদের সাথে। সখ্যতা তৈরি করে সেই সময়ের বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের সাথে। সেই থেকে শুরু হয় ডাকাত কালা জসিম এর সন্ত্রাস জীবন। গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ডাকাত কালা জসিম ধীরে ধীরে হতে থাকে অগাধ সম্পত্তির মালিক।

স্থানীয় সুত্রে তারা জানা, যখন যে জমি, বাড়ি, গাড়ি তার ভালো লাগে সেটাই তার দখলে চলে আসে ক্ষমতার প্রভাবে। দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে ডাকাত কালা জসিমের বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। আর এ অপরাধ কর্মকান্ড থেকে রেহায় পাইনি স্থানী সাধারণ জনতা ও ব্যবসায়ীরাও। আরো ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেন ডাকাত কালা জসিম। এমনকি নিজের অপরাধ লুকাতে ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিকদের পরিচয়, কখনো ছাত্রলীগ কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো যুবলীগ এমন কি অন্যের প্রতিষ্ঠান নিজের বলেও পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করেন না তিনি।

তারা জানায়,ছিচকে চোর থেকে রাঘব বোয়াল। ফুটপাত থেকে উচ্চমানের ব্যবসায়ী, কেউই রেহাই পাচ্ছে না ডাকাত কালা জসিম এর হিংস্র থাবা থেকে। সবসময় তার স্বশস্ত্র বাহিনী কৌশলে অবস্থান করছেন তার চারপাশে।

চাঁদপুর জেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের স্থানীয়

মৃত হাজী আবদুল হালিম মিজি এর ছেলে মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, জসিম একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি হওয়ার পরেও সে মাঝে মাঝে দলীয় ব্যানারে ব্যবহার করেন তিনি তাছাড়া চাঁদপুরের বাবলু ডাকাত ও নারায়ণগঞ্জের রমজান ডাকাত আর তাদের গটফাদার এই সেই জসিম ডাকাত তার বিরুদ্ধে রয়েছে ট্রলার ডাকাতি সহ অসংখ্য অভিযোগ তারপরও পুলিশ কেন ধরছে না। তার কারনে অনেক ব্যবসায়ীরা এলাকাও ছেরেছেন ইতিমধ্যে তার জুলুম দিন দিন বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হাসান লিমন জানায়, অনেক দিন থেকে ধরে বেশ ব্যাপরোয়া হয়েছে এই জসিম বিভিন্ন মানুষের সাথে হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবী করে আর এই টাকা যদি না  দেওয়া হয় তাহলেই হত্যা সহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করেন। আমাদের এলাকাবাসীর সরকারের কাছে দাবী এই চাঁদাবাজ জসিমকে আইনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি দাবী করছি।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,ফতুল্লার বক্তাবলীর গোগনগরে বার্জ ভাড়া এনে ভাড়ার টাকা দেয়ার পরিবর্তে উল্টো মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ফজর আলীর ছেলে জসিমউদ্দিন অরফে কালা জসিম সহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে।

এর আগেও জসিমউদ্দিন অরফে কালা জসিম বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি সহ অংসখ্যা  অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন এবার তার বিরুদ্ধে অন্যরকম ভাবে অভিযোগ করে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার কাঞ্চন আলী হাওলাদারের ছেলে মো.বাদল, জসিমউদ্দিন সহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানার অভিযোগ সুত্রে বাদল জানান যায়, মো.বাদল জনৈক মোঃ আলাউদ্দিন শেখ এর ঘটনা। মো.বাদল বলেন জনৈক মোঃ আলাউদ্দিন শেখ এর নিকট হতে একটি বার্জ ভাড়া নিয়ে তা বিভিন্ন ছোট ছোট প্রজেক্টে সাব ভাড়া দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করি। জসিম ওরফে ডাকাত কালা জসিম বিগত ১৯/১২/২০২১ তারিখে আমার আওতাধীন বার্জ খানা মাসিক ৩,০০,০০০/- টাকা ভাড়া চুক্তিপত্র সম্পাদন পূর্বক এন.আর.বি.সি ব্যাংক পঞ্চবটি শাখার ইস্যুকৃত ৪ টি চেক প্রদান পূর্বক ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়ার সময় তার সাথে কথা ছিল যে, প্রতি মাসে ভাড়া দেওয়ার পর একটি করে চেক ফেরৎ নিয়া যাবে। কিন্তু ভাড়া নেওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত কোন প্রকার ভাড়া দেয় নাই ভাড়া চাইতে গেলে উল্টো বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে জসিমের কাছে ৩ মাসের ভাড়া বকেয়া হয়ে যায়। বক্তাবলী ফেরিঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বস্থ এলাকায় তার থেকে বকেয়া ভাড়া চাইলে জসিম সহ তার সহযোগিরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতঃ আমার ভাড়ার টাকা পরিশোধ করবে না বরং আর তার কাছে টাকা চাইলে আমাকে এলাকা ছাড়া করবে বলে হুমকি দেয়।

অভিযোগে বাদল আরো উল্লেখ করেন , গত বৃহস্পতিবার ( ২৪ মার্চ ) দুপুর ১২ টার সময় আমি সহ জনৈক মোঃ আলাউদ্দিন শেখ সহ ২জন প্রতিনিধি নিয়া জসিমের কাছে পাওনা ভাড়ার টাকা চাহিতে গেলে সে কোন প্রকার উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকে, এক পর্যায়ে কোন কিছু বুঝার আগেই জসিম ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র এবং মোটা কাঠের ডাসা নিয়া আমাদের উপর অতর্কিত হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার অধীনে থাকা একজন ষ্টাফ কে এলো পাথারি মারপিট করে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে এ বিষয়ে আমি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি । সবশেষে  মানবতার মা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর সহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ পত্র জমা দিলে এবং বিভিন্ন  গন্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক  টনক নরে প্রশাসনের । এক পর্যায়ে প্রশাসনের বিভিন্ন চেষ্টার মাধ্যমে বার্জটি উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ দিকে বার্জ উদ্ধার হলেও অভিযোগকারী বাদল ফেরত পাননি নিজের পারি শ্রমিক এর টাকা ও বার্জ ভাড়ার টাকা।

এ ছাড়া, জসিমের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-১০, তারিখ- ২৬ মার্চ, ২০১২; জি আর নং-৩২৪/১২, ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৪৬, তারিখ- ২৬ মার্চ, ২০১০ ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৫৫, তারিখ- ১৯ অক্টোবর, ২০১১, ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৩৬, তারিখ- ১৮ মে, ২০১০, ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৫, তারিখ- ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২; জি আর নং-৬১, তারিখ- ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ মামলায় অভিযুক্ত জসিম।

তবে জসিম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কোন চাঁদবাজ না কাউকে ঠকিয়ে টাকা খাই না,আমার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ শড়যন্ত্র শুরু করেছে । আমি এখন স

ষড়যন্ত্রের শিকার।  আমি এখন ষড়যন্ত্র  কারীদের বিরুদ্ধে বিচার চাই। আমার উপরে যে ব্যক্তির বার্জ ভাড়া নিয়া অভিযোগ করেছে তার বার্জ ফিরে দেওয়া হয়েছে। তার সাথে কিছু বিষয়ে নিয়ে হিসাব নিকাশ করার পড়েই সব ঠিক করে দেওয়া হবে ।

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা মডেল থানার  ইনচার্জ

অফিসার মো. রকিবুজ্জামান বলেন, আমি এর আগেও অনেক জসিম এর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনেছি, সম্প্রতি একটি লিখত ভাবে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত চলছে।  অপরাধী যে কেউ হোক না কেনো তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।