কালা জসিম বেপরোয়া : প্রতারণা, হুমকি ধামকিসহ নানা অভিযোগ

কালা জসিম বেপরোয়া : প্রতারণা, হুমকি ধামকিসহ নানা অভিযোগ

 

বরিশাল অফিস : দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বক্তাবলীর জসিম উদ্দিন ওরফে কালা জসিম ওরফে ডাকাত জসিম। তারা বিরুদ্ধে প্রতারণা, সাধারন মানুষকে হুমকি ধামকিসহ রয়েছে নানা অভিযোগ।

ভুক্তিভোগীরা এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ এমনকি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা। যার ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই কালা জসিম ওরফে ডাকাত জসিম।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর কাছ একটি ভেকু মাসে একলক্ষ টাকা চুক্তিতে ভাড়া আনে ডাকাত জসিম। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ভেকুর ভাড়া না দেওয়ায় বিপাকে পড়েন ড. মঞ্জু। সে ডাকাত জসিমকে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ফোনও দেন। কিন্তু ডাকাত জসিমরা তার ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন।

পরে ভেকুর মালিক ড. মঞ্জু বিভিন্নভাবে ডাকাত জসিমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে হুমকি ধামকির শিকার হন। পরে ড. মঞ্জু নিরুপায় জসিম উদ্দিনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি তার ভেকু ফিরে পাওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালান।

অত:পর তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলীর স্বরণাপর্ণ হন। পরে শওকত আলী ডাকাত জসিমের ভাই বিএনপি নেতা রশীদ মেম্বারের জিম্মায় ড. মঞ্জুর সাথে একটি সমঝোতা করে দেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে তাদের মতামত জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা বলেন, জসিমের এ ধরনের কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যারফলে তার জন্য আমাদের নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

তারা বলেন, জসিমের এ ধরনের কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামীতে বাহিরের লোকেরা আমাদের ব্যবসার জন্য পল্টন, ভেকু ও ভলগেট আর ভাড়া দিবেনা। ফলে আমাদের ব্যবসার বিরাট ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে এখন থেকেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যেহেতু থানায় বহুবার অভিযোগ দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা করা হয়নি, তাই আমরা ডাকাত জসিমকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-১১’র দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তারা আরও বলেন, আমরা জেনেছি শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে জসিমের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। যে মামলার নং ১৭, তারিখ-১৬/০৩/২২ইং। তাই আমাদের প্রশ্ন, এমন একটি ছেলে কি করে আমাদের এলাকায় ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা কি দিন দিন এতটাই অসহায় হয়ে পড়ছি?

আমরা এ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাই। এইসব ডাকাত জমিসদের হাত থেকে আমাদের ব্যবসায়ী মহলকে বাঁচাতে হবে। এ জন্য থানা পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি আমাদের চেয়ারম্যান শওকত সাহেবকেও এগিয়ে আসতে হবে।

কারণ, তিনি আমাদের ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি। তাকে এ ব্যপারে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। তাই আমাদের ব্যবসা ও তার সুনামের কথা চিন্তা করে ডাকাত জসিমের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা অনুরোধ করছি।

এ ছাড়া, জসিমের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-১০, তারিখ- ২৬ মার্চ, ২০১২; জি আর নং-৩২৪/১২, ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৪৬, তারিখ- ২৬ মার্চ, ২০১০ ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৫৫, তারিখ- ১৯ অক্টোবর, ২০১১, ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৩৬, তারিখ- ১৮ মে, ২০১০, ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-৫, তারিখ- ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২; জি আর নং-৬১, তারিখ- ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ মামলায় অভিযুক্ত জসিম।