ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি আমু’র উপপ্রধানমন্ত্রী হবার সম্ভাবনা

3761

মানবতার কন্ঠ ডেস্কঃ আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ হেভিওয়েট নেতা, সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদে স্থান না পাওয়ায় জেলা জুড়ে নানান মন্তব্য হচ্ছে। তৃণমূলের ত্যাগী আওয়ামীলীগাররা অনেকে হতাশ হলেও বিচক্ষণরা আশায় বুক বেধেছেন। কেউ কেউ বলছেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এমন একজন সিনিয়র, বিচক্ষণ ও যোগ্য নেতাকে উপপ্রধানমন্ত্রী দেয়া হতে পারে। আবার অনেকে সংসদীয় উপনেতা, অনেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দিতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করছেন। তবে জেলার বিজ্ঞ রাজনীতিকদের মতামত তাকে উপপ্রধানমন্ত্রী দেয়া হতে পারে। আওয়ামীলীগের প্রতি তার অকৃত্রিম অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু কন্যা ৪থ বারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের এমপি আমির হোসেন আমুকে উপহার হিসেবে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে পারেন।
জানাগেছে, আমির হোসেন আমু ১৯৪০ সালের ১লা জানুয়ারি তদানীšত্মন বরিশাল জেলার ঝালকাঠী মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মাতা আকলিমা খাতুন। তিনি ১৯৬৫ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৮ সালে বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। আমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে স্নাকোত্তর সম্পন্ন করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সে সময় মিস ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচনের সর্বদলীয় নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আমু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল সদর আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৭২ সালে আমু যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে মনোনীত হন। এবং ১৯৭৮-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর তাকে টেকনোক্রেট কোঠায় খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি সফলভাবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করলে খাদ্যে ঘাটতি বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা দান করেন। ২০০০ সালে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতা। ২০০৬-০৮ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা যখন বন্দী ছিলেন তখন যে কয়জন নেতা দলের নেতৃত্বে ছিলেন আমু তাদের মধ্যে একজন। ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে আওয়ামীলীগের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নৌকা প্রতিকে পেয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৯শ’ ৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতিকে পেয়েছেন ৯হাজার ৮১২ ভোট। বিএনপির জীবা আমিনা খান ধানের শীষ প্রতিকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৮২ ভোট। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এমএ কুদ্দুস খান লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১হাজার ৮৭ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন খান আম প্রতিকে পেয়েছেন ৩৫৬ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ৪০৪ জন। প্রদত্ত ভোট ২লাখ ৩৩ হাজার ৯৫৬ ভোট। বৈধ ভোট ২লাখ ৩২ হাজার ১৭৪ এবং বাতিল ভোট ১ হাজার ৭৮২ টি। এ আসনে ১৪৭ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here